দেশজুড়ে শেকড় ছড়াচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
বিস্তৃত হচ্ছে এনসিপি, চারটি সংগঠন হয়েছে, আরও দুটি আসছে

জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন কেবল নির্বাচনের মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও, দলটি এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় হাত দিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে ছাত্র, যুব, শ্রমিক থেকে শুরু করে কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক—সব স্তরেই শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার মিশনে নেমেছে তরুণদের গড়া এই রাজনৈতিক দলটি।
অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জয়জয়কার
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশের পর থেকেই এনসিপি মূলধারার দলগুলোর মতোই পেশাভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলতে শুরু করে। বর্তমানে দলটির বেশ কয়েকটি শক্তিশালী উইং মাঠে সক্রিয় রয়েছে:
-
জাতীয় ছাত্রশক্তি: জাহিদ আহসান ও আবু বাকের মজুমদারের নেতৃত্বে ১২২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
-
জাতীয় যুবশক্তি: তারিকুল ইসলাম ও ডা. জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবকদের সংগঠিত করছে ১৩৪ সদস্যের কমিটি।
-
জাতীয় শ্রমিক শক্তি: মাজহারুল ইসলাম ফকির ও ঋআজ মোর্শেদের নেতৃত্বে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করছে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি।
-
জাতীয় নারীশক্তি: সর্বশেষ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুমের নেতৃত্বে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
পাইপলাইনে কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক শক্তি
এনসিপির তৃণমূল প্রসারের কাজ এখানেই থেমে নেই। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’। এছাড়া দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ নিশ্চিত করেছেন যে, ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ গঠনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
পেশাজীবী মহলেও সরব উপস্থিতি
সাধারণ জনমতের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী শ্রেণিকে কাছে টানতে এনসিপি গড়ে তুলেছে একাধিক বিশেষায়িত উইং:
-
চিকিৎসক: ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স।
-
শিক্ষক: ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম।
-
আইনজীবী: ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ও ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স।
-
অন্যান্য: ওলামা অ্যালায়েন্স, প্রকৌশলী উইং এবং ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্স।
জনতা নিউজের বিশ্লেষণ: লক্ষ্য কি ২০২৯?
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে ৩০টি আসনে লড়ে মাত্র ৬টিতে জয় পায় এনসিপি। ভোটের এই ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল জনসভা বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে বড় জয় পাওয়া কঠিন। আর সেই উপলব্ধি থেকেই এনসিপি এখন প্রচলিত বড় দলগুলোর (যেমন বিএনপি বা আওয়ামী লীগ) মতো শক্তিশালী ‘অর্গানাইজেশনাল চেইন’ তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি বুঝতে পেরেছে যে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক—এই তিন স্তম্ভে শক্ত ভিত্তি থাকা জরুরি। পেশাভিত্তিক এই সংগঠনগুলো যদি তৃণমূল পর্যন্ত সফলভাবে পৌঁছাতে পারে, তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি কেবল ‘কিং মেকার’ নয়, বরং অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।



আপনার মতামত লিখুন
Array