খুঁজুন
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

খোলস ছেড়ে রাজনীতিতে ফেরার কৌশলে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতা নিউজ | ঢাকা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
খোলস ছেড়ে রাজনীতিতে ফেরার কৌশলে আওয়ামী লীগ

তৃণমূল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছে আওয়ামী লীগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তীব্র জনরোষ এবং আইনি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগ এখন অস্তিত্ব রক্ষার নতুন সমীকরণ মেলাচ্ছে। সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার পথ কণ্টকাকীর্ণ হওয়ায় দলটি এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনকে ‘রাজনৈতিক এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে।

দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং আত্মগোপনে থাকা একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমান্ডের নির্দেশে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এখন থেকেই স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ফিরে আসার সিঁড়ি

৫ আগস্টের পর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনসহ জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের প্রায় সবাই অপসারিত বা পলাতক রয়েছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে ঈদের পর পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইঙ্গিত পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামী লীগ।

দলটির কৌশলের মূল দিকগুলো হলো:

  • নির্দলীয় প্রতীকের আশা: আওয়ামী লীগ নেতারা এখন মনে করছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলে নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের অংশগ্রহণ জটিল হবে। তাই তারা ভেতরে ভেতরে স্থানীয় নির্বাচন ‘নির্দলীয়’ করার পক্ষে মত দিচ্ছেন, যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের সমর্থকরা মাঠে থাকতে পারেন।

  • ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগানো: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রভাব ও পারিবারিক পরিচিতি বেশি গুরুত্ব পায়। আওয়ামী লীগ এই সুযোগটিই নিতে চায়।

  • মামলা ও জামিন: স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে কারাগারে থাকা ও আত্মগোপনে থাকা নেতাদের দ্রুত জামিন এবং আইনি লড়াইয়ে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আইনজীবী সমিতিতে সাফল্যের ‘টনিক’

আওয়ামী লীগের এই নতুন আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল। গত কয়েক মাসে কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়লাভ করেছে।

বিশেষ করে কক্সবাজারে ১৭টির মধ্যে ৭টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সভাপতিসহ ১০টি পদে জয় দলটিকে আশাবাদী করে তুলেছে। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে তারা এখন এসিড টেস্ট হিসেবে দেখছে।


বিশ্লেষকদের ভাবনা: রাজনীতিতে ফেরা কি এতই সহজ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটা সুযোগ হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন:

“স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তি যারা আগে সুযোগ পাননি, তারা হয়তো এবার নির্বাচনে অংশ নেবেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন কেবল নির্বাচন দিয়ে সম্ভব নয়। দলটির নেতৃত্বের মধ্যে অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে এখনো কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। ফলে জাতীয়ভাবে ফিরতে হলে তাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।”

জনতা নিউজের পর্যবেক্ষণ

আওয়ামী লীগ যখন স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন কি তারা করতে পেরেছে? একদিকে আত্মগোপনে থাকা শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল নির্দেশনা, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে কর্মী সংকট—সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচনই হতে যাচ্ছে দলটির টিকে থাকার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সরকার যদি শেষ পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আওয়ামী লীগের কৌশলী অবস্থান নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

Share this news as a Photo Card

বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ: ১০৮ জনের বিশাল বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ: ১০৮ জনের বিশাল বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ: ১০৮ জনের বিশাল বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতা নিউজ ঢাকা | ৩১ মার্চ, ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এলো বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (সাধারণ)’ পদে জনবল নিয়োগের বিশাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই পদে মোট ১০৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তবে ব্যাংকের প্রয়োজন অনুযায়ী এই পদসংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে।

গতকাল ৩০ মার্চ থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন।


যোগ্যতা ও শর্তাবলি:

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকতে হবে:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) অথবা স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

  • ফলাফল: এসএসসি থেকে পরবর্তী স্তরের পরীক্ষাগুলোর অন্তত দুটিতে প্রথম বিভাগ বা সমমানের জিপিএ থাকতে হবে। কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে (জন্মতারিখ ২ ডিসেম্বর ১৯৯৩ থেকে ২৮ এপ্রিল ২০০৫-এর মধ্যে হতে হবে)।


বেতন ও সুযোগ-সুবিধা:

নিযুক্ত প্রার্থীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নবম গ্রেডে (২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা) বেতন পাবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রদান করা হবে।


আবেদন প্রক্রিয়া ও ফি:

আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে।

  • আবেদন ফি: ২০০ টাকা।

  • আবেদন শুরুর তারিখ: ৩০ মার্চ, ২০২৬।

  • আবেদনের শেষ সময়: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬।

নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও শর্তাবলি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা নিয়োগ পোর্টালে সরাসরি দেখা যাবে। ক্যারিয়ার সচেতন তরুণদের জন্য এটি একটি সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধা বাদ

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন লক্ষাধিক ‘অমুক্তিযোদ্ধা’: সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন লক্ষাধিক ‘অমুক্তিযোদ্ধা’: সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক, জনতা নিউজ ঢাকা | ৩১ মার্চ, ২০২৬

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় লক্ষাধিক অমুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে এই অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।


ভুয়া নয়, এরা ‘অমুক্তিযোদ্ধা’

বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৭ বছরে অসংখ্য অমুক্তিযোদ্ধাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে চাই না, কারণ মুক্তিযোদ্ধা কখনও ভুয়া হয় না; তারা আসলে অমুক্তিযোদ্ধা।”

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার এই অমুক্তিযোদ্ধাদের সব সুবিধা থেকে দূরে রেখে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করতে চায়। যারা রাজনৈতিক কারণে বা হয়রানির শিকার হয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করলেও আওয়ামী লীগ সরকার তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর জবাবে মন্ত্রী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “অতীতে যারা বিরোধী দল করত, তাদের মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিয়ে হয়রানি করা এবং সুনাম নষ্ট করা একটি নিয়মিত বিষয় ছিল।”

সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ এবং সনদ স্থগিত করা হয়েছিল। এই অনিয়মগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‘যন্তর মন্তর’ ঘর ও রাজাকারের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে ‘যন্তর মন্তর’ ঘরের মতো রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে তালিকায় ঢুকেছেন তা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং অল্প দিনের মধ্যেই এই সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে।


অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

  • বিমানের নাম পরিবর্তন: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) জানিয়েছেন, ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা স্বচ্ছ করতে এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের অপসারণ করতে দ্রুতই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে।

ডিজেল ১০০, অকটেন ১২০ টাকা; অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও স্বস্তি: এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও স্বস্তি: এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

ডিজেল ১০০, অকটেন ১২০ টাকা; অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতা নিউজ ঢাকা | ৩১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লেগেছে, তখন দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো সরকার। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দাম অপরিবর্তিত থাকছে।

আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, আগের মাসের ধারাবাহিকতায় এপ্রিল মাসেও ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন একই দামে বিক্রি হবে।


তেলের বর্তমান বাজারমূল্য একনজরে:

জ্বালানির ধরন প্রতি লিটারের দাম (টাকা)
ডিজেল ১০০.০০
কেরোসিন ১১২.০০
পেট্রল ১১৬.০০
অকটেন ১২০.০০

ভর্তুকির চাপ ও সরকারের অবস্থান

বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের যা দাম, সেই তুলনায় দেশে অনেক কম দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তেলের দাম সমন্বয় করা হলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম হওয়ার কথা ছিল প্রায় ২০০ টাকা। সরকার দাম না বাড়ানোর ফলে শুধু এক মাসেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হবে।

গতকাল জাতীয় সংসদে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)। তিনি জানান:

  • গত এক মাসে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৮ শতাংশ

  • প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে বর্তমানে সরকারের খরচ হচ্ছে ১৯৮ টাকা

  • অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এটি আমদানিতে খরচ পড়ছে ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা

স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি

২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (Automatic Pricing Formula) চালু করা হলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি থেকে বিরত থাকছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে আমদানিমূল্য বিবেচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়। তবে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হওয়ায় সরকার বিশাল অংকের ভর্তুকি দিয়ে হলেও এর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম বিইআরসি (BERC) নির্ধারণ করলেও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশে মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করা হচ্ছে। চরম বৈশ্বিক সংকটেও তেলের দাম না বাড়ায় সাধারণ পরিবহন ও কৃষিখাতে বড় ধরণের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৪ মার্চ ২০২৬

খোলস ছেড়ে রাজনীতিতে ফেরার কৌশলে আওয়ামী লীগ

www.jonotanews.com