
সংসদ প্রতিবেদক, জনতা নিউজ ঢাকা | ৩১ মার্চ, ২০২৬
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় লক্ষাধিক অমুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে এই অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভুয়া নয়, এরা ‘অমুক্তিযোদ্ধা’
বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৭ বছরে অসংখ্য অমুক্তিযোদ্ধাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে চাই না, কারণ মুক্তিযোদ্ধা কখনও ভুয়া হয় না; তারা আসলে অমুক্তিযোদ্ধা।”
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার এই অমুক্তিযোদ্ধাদের সব সুবিধা থেকে দূরে রেখে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করতে চায়। যারা রাজনৈতিক কারণে বা হয়রানির শিকার হয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করলেও আওয়ামী লীগ সরকার তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর জবাবে মন্ত্রী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “অতীতে যারা বিরোধী দল করত, তাদের মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিয়ে হয়রানি করা এবং সুনাম নষ্ট করা একটি নিয়মিত বিষয় ছিল।”
সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ এবং সনদ স্থগিত করা হয়েছিল। এই অনিয়মগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
‘যন্তর মন্তর’ ঘর ও রাজাকারের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে ‘যন্তর মন্তর’ ঘরের মতো রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে তালিকায় ঢুকেছেন তা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং অল্প দিনের মধ্যেই এই সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
-
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।
-
বিমানের নাম পরিবর্তন: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) জানিয়েছেন, ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা স্বচ্ছ করতে এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের অপসারণ করতে দ্রুতই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে।
আপনার মতামত লিখুন
Array